শিরোনাম :
সাগরে মাছ নেই হতাশ জেলেরা কলাপাড়ার ডালবুগঞ্জে তিন প্রতিবন্ধী ও দুই বিধবা পেলো প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘর কুষ্টিয়া জেলা ইউনাইটেড অনলাইন প্রেসক্লাবের জরুরি সভা অনুষ্ঠিত মৌলভীবাজার শ্রীমঙ্গলে করোনায় মৃত্যুঃ দাফন-কাফনে ইকরামুল মুসলিমীন ফাউন্ডেশন শ্রীমঙ্গল গরীব অসহায়দের মাঝে খাদ্যদ্রব্য বিতরণে প্রশংসনীয় পদক্ষেপ নিলেন পুলিশ সুপার মোঃ নাইমুল হক ঠাকুরগাঁওয়ে পুত্রবধূর আঘাতে শাশুড়ির মৃত্যু ঠাকুরগাঁও সদর পৌরসভার স্থগিত হওয়া ওয়ার্ডটিতে ভোট গ্রহণ চলছে কলাপাড়ার ধুলাসারে বিষপান করে ১ শ্রমিকের মৃত্যু। খানসামায় গণহত্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত মিরপুর প্রেসক্লাবের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন সভাপতি চঞ্চল মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক জহিরুল রাজশাহী মহানগরে ভূয়া (MLM) কোম্পানীর প্রতারনা পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ০৪ প্রতারক বন্দীদশা হতে উদ্ধার-৩৭ জন করোনার ২য় ঢেউ মোকাবেলায় সর্বত্র সতর্কাবস্থা গ্রহণে তৎপর মহিপুর থানা পুলিশ মির্জাপুর ইউনিয়ন ০৯নং ওয়ার্ডে নির্বাচন আলোচনা সভা রাজশাহী মেট্রপলিটন পুলিশ ভাইরাস ঠেকাতে মাঠে নামছে ধর্মপাশার সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নে স্বেচ্ছাসেবকলীগ আহবায়ক কমিটি অনুমোদিত সমাজ সেবায় কাউন্সিলর আমজাদ হোসেন শেরে বাংলা পদক পেলেন কুয়াকাটা সৈকতে বালু ভাস্কর্য প্রদর্শনীর উদ্বোধন করলেন ডিআইজি কুয়াকাটায় বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে মুসলিম এইডের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত চিতলমারী বাজার ব্যবসা ব্যবস্থাপনা কমিটির আয়োজনে জাতির পিতার ১০১ তম জন্মশতবার্ষিকী পালন ৩৩৩ নম্বরে ফোন করে চাইলেন সহযোগিতা হাত বাড়িয়ে দিলেন কলাপাড়া’র ইউএনও কলাপাড়াকে জেলার দাবীতে মানববন্ধন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ খুকনি ইউনিয়ন শাখার ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন ২০২১ রানীশংকৈলে ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা কালীগঞ্জে নজরুল মাষ্টারের বিরুদ্ধে সরকারী গাছ কর্তন সহ বিভিন্ন অভিযোগ কলাপাড়ায় জিএনবি’র উদ্যোগে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উদযাপন মহিপুর থানা পুলিশ ও কুয়াকাটা পৌরসভায় উন্নয়নশীল দেশে উত্তরনে কলাপাড়া থানা পুলিশের আনন্দ উদযাপন মিশ্রিপাড়ায় সীমা বৌদ্ধ বিহারের জমি দখলমুক্ত করতে রাখাইনদের মানববন্ধন মিশ্রিপাড়ায় সীমা বৌদ্ধ বিহারের জমি দখলমুক্ত করতে রাখাইনদের মানববন্ধন সাভার বাসস্ট্যান্ডে হিজড়া হকার সংঘর্ষ আহত – ১০ ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ঢেউটিন বিতরণ করলেন- দুলাল রব্বানী আজীবন মানুষের কল্যানে কাজ করে যাবো- পলক পটুয়াখালী জেলার মহিপুর থানার একটি মাদক বিরোধী সাঁড়াশি অভিযান আটক ০১ কলাপাড়ায় ভুট্টা চাষে বাম্পার ফলন: কৃষকের মুখে হাসি কালের সাক্ষী শিব মন্দিরের বটবৃক্ষ সিঙ্গাপুরের তুয়াস নিহতদের জন্য লক্ষ্যমাত্রা ৩ লক্ষ হলেও অনুদানে জমা হয়েছে ৬ লক্ষ ৪ হাজার সিংগাপুর ডলারের উপরে রাজধানী বিভিন্ন জায়গায় বিদ্যুৎ চুরি করে অটোরিকশায় চার্জ। ঢাকার দোহারে ট্রাকের ধাক্কায় নিহত ১ কলাপাড়ার ডালবুগঞ্জ উপ-নির্বাচনে আ’লীগ মনোনীত প্রার্থী বিজয়ী রাত পোহালে ডালবুগঞ্জ ইউপি উপ-নির্বাচন ভোট কেন্দ্রে পুলিশি টহল কলাপাড়ার ডালবুগঞ্জে চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচন; চলছে শেষ মুহূর্তের প্রচার প্রচারণা নৌকা প্রতীকের নির্বাচনী অফিস ও বাসায় ভাঙ্গচুর আমি শেষ বয়সে ডালবুগঞ্জ ইউনিয়ন বাসীর পাশে থাকতে চাই, অধ্যক্ষ দেলওয়ার হোসেন শিকদার কলাপাড়ায় নব-নির্বাচিত মেয়রকে সংবর্ধনা রাজশাহী মহানগরীতে গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে লাশ বহনকারী গাড়ীর চাঁদাবাজ দালাল চক্রের সদস্য গ্রেফতার জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), কর্তৃক ৭০০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আটক- ০১ কেশবপুর পৌর নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠ ভাবে সম্পন্ন হবে-সিইসি পাবনার চাটমোহরে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর দেওয়ার আশ্বাসে ইউপি চেয়ারম্যানের অর্থ আদায়ের অভিযোগ ভালুকায় মোটরসাইকেল ও যাত্রিবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ২ জন নিহত সাংবাদিক বোরহান হত্যার প্রতিবাদে কু্ষ্টিয়া প্রেসক্লাব কেপিসি’র সমাবেশ ও বিক্ষোভে শেখ হাসিনা সরকারের ক্ষমতার আমলে দেশে ক্রীড়া ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে- এমপি শাওন ভ্রমণ পিপাসুদের অন্যতম আকর্ষণের জায়গা কুয়াকাটার সমুদ্র সৈকত মহিপুর প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত কলাপাড়ায় করোনা টিকার ফ্রি রেজিষ্ট্রেশন করছে রয়েল ব্যাচ ২০০০ কলাপাড়া পৌরসভার নির্বাচনে নৌকা ৪১৪ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিপুল চন্দ্র হাওলাদার, পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া পৌরসভায় আজ ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতিতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ খাদ্যপণ্যসহ চালের মূল্য বৃদ্ধিতে বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী পরিষদের উদ্বেগ প্রকাশ আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি, ভ্যালেন্টাইনস ডে বা ভালোবাসা দিবস। দোহারে বিডি ক্লিন ও ব্লাড ব্যাংকের ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠান। কলাপাড়া নির্বাচন উপলক্ষে পটুয়াখালী জেলা পুলিশের ব্রিফিং ভোট কেন্দ্রে সাংবাদিক নির্যাতন-হয়রাণীকে না বলুন রাজশাহী কর ভবনে বঙ্গবন্ধু কর্ণার ও লাইব্রেরীর উদ্বোধন আরেকটি রাজশাহী বাসীর সবার জন্য সৌন্দর্য যোগ হলো সড়ক বাতি সাতক্ষীরা পৌর নির্বাচনে জুম্মার নামাজান্তে নৌকায় ভোট চাইলেন আসাদুজ্জামান বাবু শাহজাদপুরে ১,শ ৫০জন দুস্হ পরিবারের মাঝে কাপড় ও চাদর বিতরণ করলেন প্রফেসর মেরিনা জাহান কবিতা সাতক্ষীরা পৌর নির্বাচনে নৌকা প্রতীককে বিজয়ী করতে সৈয়দ আমিনুর রহমান বাবু’র নেতৃত্বে গণসংযোগ বরগুনায় পুলিশ সুপার ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট লালমোহনে প্রতিপক্ষের হামলার ঘটনায় মামলা, গ্রেফতার-৯ মঠবাড়িয়ায় গাঁজা ও ইয়াবা সেবনকারী ৩ যুবক আটক সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পৌর নির্বাচনের ৩৭ টি ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন শীতার্থদের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরণ করলেন চাটখিল উপজেলা প্রেসক্লাব মঠবাড়িয়ায় টিকিকাটা সাঈফী নগর মাদ্রাসায় অভিভাবক সমাবেশ মাদক বিরোধী অভিযান চলছে জেলা পুলিশ যশোরের মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযান চলমান। আইন শৃঙ্খলা সক্ষমতা বাড়া‌তে বাংলাদেশ পুলিশে যুক্ত হচ্ছে দুটি অত্যাধুনিক হেলিকপ্টার সাতক্ষীরায় নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করতে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করলেন কাউন্সিলর প্রার্থী রেজাউল সপ্না হত্যার বিচার চাই সপ্নার পরিবার বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত চৌহালীর উপজেলার চেয়ারম্যানের করোনার ভ্যাকসিনের টিকা নেওয়ার অভিনয় ভাইরাল। বরগুনায় স্বামীকে খুন, ৮ মাস পর হত্যারহস্য উদঘাটন,স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিক গ্রেফতার জামালপুর পৌর নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত করার লক্ষে যুবলীগের যৌথ কর্মী সভা অনুষ্ঠিত লালমোহনে শিশু বিয়ের কারণ, প্রভাব ও প্রতিকার নিয়ে এ্যাডভোকেসি সভা সিমা হত‍্যার আসামি কি তাহলে পার পেয়ে যাবে? সাতক্ষীরায় পিতা-মাতার পর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হলেন সাফিয়া পারভীন। হাজারো পুরুষের আত্ম-কাহিনী। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে প্রথম ইভিএম ভোটে প্রথম মেয়র মোখলেসুর রহমান। নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে চোরাই মোটরসাইকেলসহ গ্রেফতার ২ হাতিয়ায় বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের উদ্যোগে,জাহাজমারা শাখায় মতবিনিময় সভা চাঁপাইনবাবগঞ্জ শিবগঞ্জ ৫৯ বিজিবি’র সীমান্তে হেরোইন ও ফেন্সিডিল উদ্ধার কক্সবাজার বিমানবন্দরে বিমানের ধাক্কায় ২ গরুর মৃত্যু, বড় দুর্ঘটনা থেকে যাত্রীদের রক্ষা Gbc Babu র‍্যাব-৫ রাজশাহী কর্তৃক হেরোইন সহ ০১ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার র‍্যাব-৫, রাজশাহী কর্তৃক হেরোইন সহ ০১ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

শৈলকুপার ভূমি কন্যা ইলা মিত্রের ৯৭ তম জন্মদিন আজ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২১

মাতৃজগত ডেস্ক :

বাঙালি কৃষক বিপ্লবী নেত্রী ইলা মিত্র (জন্ম১৮ অক্টোবর, ১৯২৫, মৃত্যু ১৩ অক্টোবর,২০০২) একজন বাঙালি মহিয়সী নারী এবং সংগ্রামী কৃষক নেতা। বাংলার শোষিত ও বঞ্চিত কৃষকের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি সংগ্রাম করেছেন। ভোগ করেছেন অমানুষিক নির্যাতন।

জন্ম, শৈশব ও শিক্ষা জীবন
ইলা মিত্র ১৯২৫ সালের ১৮ অক্টোবর কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। জন্মের সময় ইলা মিত্র ছিলেন ইলা সেন। তাঁর বাবা নগেন্দ্রনাথ সেন ছিলেন বৃটিশ সরকারের অধীন বাংলার একাউন্টেন্ট জেনারেল। তাঁদের আদি নিবাস ছিল তৎকালীন যশোরের ঝিনাইদহের বাগুটিয়া গ্রামে। বাবার চাকুরির সুবাদে তাঁরা সবাই কলকাতায় থাকতেন। এ শহরেই তিনি বেড়ে ওঠেন। লেখাপড়া করেন কলকাতার বেথুন স্কুল ও বেথুন কলেজে। এই কলেজ থেকে তিনি ১৯৪৪ সালে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন। পরে ১৯৫৮ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে এম এ ডিগ্রি লাভ করেন। কৈশোরে তিনি খেলাধুলায় তুখোড় ছিলেন। ১৯৩৫ থেকে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন রাজ্য জুনিয়র এ্যাথলেটিক চ্যাম্পিয়ন। সাঁতার, বাস্কেটবল ও ব্যাডমিন্টন খেলায়ও তিনি ছিলেন পারদর্শী। তিনিই প্রথম বাঙালি মেয়ে যিনি ১৯৪০ সালে জাপানে অনুষ্ঠিত অলিম্পিকের জন্য নির্বাচিত হন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে অলিম্পিক বাতিল হয়ে যাওয়ায় তার অংশগ্রহণ করা হয়নি। খেলাধুলা ছাড়াও গান, অভিনয়সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও তিনি ছিলেন সমান পারদর্শী।

রাজনীতিতে প্রবেশ
ইলা সেন যখন বেথুন কলেজে বাংলা সাহিত্যে বি.এ সম্মানের ছাত্রী তখন থেকেই রাজনীতির সাথে পরিচয় ঘটে। নারী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনীতিতে প্রবেশ। সময়টা ছিল ১৯৪৩ সাল, ইলা সেন কলকাতা মহিলা সমিতির সদস্য হলেন। হিন্দু কোড বিলের বিরুদ্ধে ঐ বছরই মহিলা সমিতি আন্দোলন শুরু করে। সমিতির একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে তিনি এই আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেন। এ সময় তিনি সনাতনপন্থীদের যুক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে অনেক প্রচার আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। মহিলা আত্মরক্ষা সমিতি নামক সংগঠনের মাধ্যমে নারী আন্দোলনের এই কাজ করতে করতে তিনি মাত্র ১৮ বছর বয়সে ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য পদ লাভ করেন।

বিবাহ ও কর্ম জীবন
১৯৪৫ সালে ইলা সেনের বিয়ে হয় দেশকর্মী কমিউনিস্ট রমেন্দ্রনাথ মিত্রের সাথে। রমেন্দ্র মিত্র মালদহের নবাবগঞ্জ থানার রামচন্দ্রপুর হাটের জমিদার মহিমচন্দ্র ও বিশ্বমায়া মিত্রের ছোট ছেলে। বিয়ের পর বেথুনের তুখোড় ছাত্রী ইলা সেন হলেন জমিদার পুত্রবধু ইলা মিত্র। কলকাতা ছেড়ে চলে এলেন শ্বশুরবাড়ি রামচন্দ্রপুর হাটে। হিন্দু রক্ষণশীল জমিদার পরিবারের নিয়মানুসারে অন্দর মহলেই থাকতেন ইলা মিত্র। তখনও তিনি মা হননি তাই হাতে অফুরন্ত অবসর। এই বন্দী জীবনে মুক্তির স্বাদ নিয়ে এলো গ্রামবাসীর একটি প্রস্তাব। রমেন্দ্র মিত্রের বন্ধু আলতাফ মিয়ার পৃষ্ঠপোষকতায় বাড়ির কাছেই কৃষ্ণগোবিন্দপুর হাটে মেয়েদের জন্য একটি স্কুল খোলা হলো। গ্রামের সবাই দাবি জানালেন তাঁদের নিরক্ষর মেয়েদের লেখাপড়া শেখাবার দায়িত্ব নিতে হবে বধুমাতা ইলা মিত্রকে। বাড়ি থেকে অনুমতিও মিললো কিন্তু বাড়ির চার’শ গজ দুরের স্কুলে যেতে হয় গরুর গাড়ি চড়ে। মাত্র তিনজন ছাত্রী নিয়ে স্কুলটি শুরু হলেও ইলা মিত্রের আন্তরিক পরিচালনায় তিনমাসের মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫০-এ। আর এর মধ্যে তিনি হেঁটে স্কুলে যাওয়ার অনুমতি লাভ করতেও সক্ষম হন। সংগ্রামী নেত্রী এভাবেই অন্দর মহল থেকে বের হয়ে এসে আবার নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন বৃহত্তর সমাজ সেবার কাজে। হয়ে ওঠেন এলাকার রাণীমা। এ সময়ে তিনি স্বামী রমেন্দ্র মিত্রের কাছে জমিদার ও জোতদারের হাতে বাংলার চাষীদের নিদারুণ বঞ্চনা শোষণের কাহিনি শোনেন। আরো শোনেন এই শোষণের বিরুদ্ধে তাঁদের আন্দোলনের প্রচেষ্টার কথা। কমিউনিস্ট রমেন্দ্র মিত্র এর আগেই জমিদারি প্রথার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য নিজের পারিবারিক ঐতিহ্য ও মোহ ত্যাগ করে কৃষকের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। রমেন্দ্র মিত্র, ইলা মিত্রকে তাঁদের কাজে যোগ দিতে উৎসাহিত করেন। ছাত্রী জীবনেই ইলা মিত্র কমিউনিস্ট আদর্শের সংস্পর্শে এসেছিলেন, তাই স্বামীর আদর্শ ও পথ চলার সাথে সহজেই নিজেকে যুক্ত করতে পেরেছিলেন। ১৯৪৬ থেকে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত রাজশাহীর নবাবগঞ্জ অঞ্চলে তেভাগা আন্দোলনে নেতৃত্ব দান করেন ইলা মিত্র।

তেভাগা আন্দোলন ও ইলা মিত্র
তেভাগা আন্দোলনের ইতিহাস জানতে হলে সে সময়ের ভূমি ব্যবস্থা বিষয়ে জানা প্রয়োজন। বাংলার গ্রামীণ সমাজে ব্রিটিশ শাসনের আগ পর্যন্ত ভূমির মালিক ছিলেন চাষীরা। মোগল আমল পর্যন্ত তারা এক-তৃতীয়াংশ বা কখনো কখনো তার চেয়েও কম ফসল খাজনা হিসাবে জমিদার বা স্থানীয় শাসনকর্তার মাধ্যমে রাষ্ট্রকে প্রদান করতেন। ব্রিটিশ শাসন আমলে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রথা প্রচলনের ফলে চাষীদের জমির মালিকানা চলে যায় জমিদারদের হাতে। জমিদাররা জমির পরিমাণ ও উর্বরতা অনুযায়ী ব্রিটিশদের খাজনা দিত। জমিদারদের সাথে ফসল উৎপাদনের কোনো সম্পর্ক ছিল না। এ সময় জমিদার ও কৃষকদের মাঝখানে জোতদার নামে মধ্যস্বত্বভোগী এক শ্রেণীর উদ্ভব ঘটে। এরা পত্তনি প্রথার মাধ্যমে জমিদারদের কাছ থেকে জমি পত্তন বা ইজারা নিত। এই জোতদার শ্রেণী কৃষকের জমি চাষ তদারকি ও খাজনা আদায়ের কাজ করতো। ফসল উৎপাদনের সম্পূর্ণ খরচ কৃষকেরা বহন করলেও যেহেতু তারা জমির মালিক নন সে অপরাধে উৎপাদিত ফসলের অর্ধেক তুলে দিতে হতো জোতদারদের হাতে। এ ব্যবস্থাকে বলা হতো ‘আধিয়ারী’। জোতদারি ও জমিদারি প্রথা ক্ষুদ্র কৃষকদের শোষণের সুযোগ করে দেয়। খাজনা আদায়ের জন্য জোতদাররা এদেরকে দাসের মতো ব্যবহার করে। উৎপন্ন ফসলের পরিবর্তে একসময় কৃষককে বাধ্য করা হয় অর্থ দিয়ে খাজনা পরিশোধ করতে। ফলে কৃষকেরা গ্রামীণ মহাজনদের কাছ থেকে ঋণ নিতে বাধ্য হন। সর্বস্বান্ত হয়ে এক সময়ের সমৃদ্ধ বাংলার কৃষক পরিণত হন আধিয়ার আর ক্ষেত মজুরে। জমিদার-জোতদারদের এই শোষণ কৃষকের মনে বিক্ষোভের জন্ম দেয়। এই বিক্ষোভকে সং

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Developed By Bangla Webs