1. info@matrijagat.com : matrijagat : Daly matrijagat
  2. doynikmatrijagat@gmail.com : matrijagat1 :
  3. banglahost.net@gmail.com : rahad :
সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দিদের খাদ্য ও রক্ষীদের রেশন নিয়ে দুর্নীতি জেল সুপার আব্দুল জলিলকে বদলি - দৈনিক মাতৃজগত
নোটিশ:
বহুল জনপ্রিয় জাতীয় দৈনিক মাতৃজগত পত্রিকা ও জনপ্রিয় আইপি টেলিভিশন মাতৃজগত টিভিতে সংবাদকর্মী নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। সারা বাংলাদেশে বিভিন্ন জেলায়, উপজেলায়, জেলা ব্যুরো প্রধান ও বিভাগীয় ব্যুরো প্রধানে কাজ আগ্রহী প্রার্থীগণ সিভি পাঠাতে পারেন। ইমেইল: doynikmatrijagat@gmail.com যোগাযোগ নাম্বার: 01712-608880, 01613-060606
শিরোনাম :
আনন্দ ভ্রমণ কক্সবাজার সৌজন্যে শ্রীপুর উপজেলা কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন। শিবচরের মাদবরচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন ২০২০ অনুষ্ঠিত। নারায়ণগঞ্জে দুইদিনে বিএনপির তিন নেতার মৃত্যু, মামুন মাহমুদ সহ বিভিন্ন নেতার শোক প্রকাশ। বগুড়ায় কমিউনিটি পুলিশিং ডে উদযাপিত জনগণের সাথে সেতুবন্ধন। পৌরসভার সকল উন্নয়নের অংশীদার হয়ে পৌরবাসীর পাশে থাকবো : ১ নং ওয়ার্ডে মেয়র প্রার্থী ফজলে রাব্বী। পতেঙ্গা মডেল থানায় কমিউনিটি পুলিশিং ডে ২০২০ কেক কেটে উদযাপন। মহানবীকে অবমাননাকারী কাফেরদের শাস্তির দাবিতে সাতক্ষীরা ইমাম সমিতির মানববন্ধন। নরসিংদীতে পালিত হচ্ছে কমিউনিটি পুলিশিং ডে ২০২০। মির্জাগঞ্জে গ্রেফতার হলো ২ বছরের সাজা প্রাপ্ত আসামি। তামাবিল মহাসড়কে রমরমা টোকেন বাণিজ্যে: বেপরোয়া টোকেন সিন্ডিকেট চক্র!

সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দিদের খাদ্য ও রক্ষীদের রেশন নিয়ে দুর্নীতি জেল সুপার আব্দুল জলিলকে বদলি

এমরান ফয়সল,সিলেট ব্যুরো
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ১০৬ বার

সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দিদের খাদ্য ও রক্ষীদের রেশন নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতে সিনিয়র জেল সুপার আব্দুল জলিলকে বদলি করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে- নির্ধারিত খাবার থেকে বঞ্চিত করে বরাদ্দের ৩ ভাগের ১ ভাগ সরবরাহ করা হতো বন্দিদের এবং বাকি ২ ভাগ  কারাগারের বাইরে বিক্রি করা হতো।

এছাড়াও কারারক্ষীদের রেশনের পরিবর্তে যে নগদ অর্থ দেয়া হয় সেখানেও পদে পদে অনিয়ম। চাল, ডাল, চিনি, তেলসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের প্রকৃত দামের অর্ধেক টাকা পান রক্ষীরা। এসব ঘটনার নেপথ্যে জেল সুপার আবদুল জলিলের নেতৃত্বাধীন একটি সিন্ডিকেট প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত।

এদিকে, গত সোমবার কারাগারে পরিদর্শনে আসা জেলা প্রশাসকের সামনে ওই চাপা ক্ষোভের বহিপ্রকাশ ঘটান এক বন্দি। এদিন জেল সুপারের শরীরে মানববিষ্ঠা নিক্ষেপ করে এর তীব্র প্রতিবাদ জানান ওই বন্দি। ওই বন্দির নাম শফিকুল ইসলাম জাবেদ। এ ঘটনার রেশ ধরে সন্ধ্যার পর জাবেদকে নিরাপত্তা সেলের ভেতরে বেদম প্রহার করে মনফর নামের এক কারারক্ষী। সারা রাত তাকে উলঙ্গ করেও রাখা হয়।

জাবেদের সেলে দায়িত্বরত একজন কারারক্ষী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘জাবেদের অভিযোগ- জেল সুপার আবদুল জলিল তাকে বুদ্ধি দিয়ে কারাগারে একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনার স্বীকারোক্তি নিয়েছেন।

হত্যার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা ছিল না বলে জাবেদ দাবি করেছেন। জেল সুপার তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন, ঘটনার স্বীকারোক্তি দিলে যতদিন কারাগারে থাকবেন ততদিন নিরাপত্তা সেলের যে কক্ষে তিনি বন্দি আছেন, সেখানে একটা টিভি দেয়া হবে। এমনকি আইনি সহায়তা দিয়ে জেল থেকে মুক্তি ছাড়াও ভালো ভালো খাবার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল তাকে। জাবেদের অভিযোগ, টিভি দেয়াতো দূরের কথা কারা বিধি অনুযায়ী ঠিকমতো খাবারও দেয়া হয় না তাকে।

কম খাবার পরিবেশনের অভিযোগ শুধু জাবেদের নয়, সব বন্দির। এরপরই ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তার জেল ভিজিটের অপেক্ষায় ছিলেন এ জাবেদ।

জানা যায়, গত সোমবার সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার পরিদর্শনে যান সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম। জেল ভিজিটের খবর পেয়ে পূর্বপ্রস্তুতি নেন জাবেদ। একটি সেভেন-আপের বোতলে মানববিষ্ঠা গুলিয়ে নিজের কাছে রাখেন। দুপুর ১২টার দিকে জেল সুপার জেলা প্রশাসককে নিয়ে ওই সেলের সামনে গিয়ে এ বন্দির সাক্ষাৎকার নিচ্ছিলেন। ওই সময় হঠাৎ ওই বোতলের ময়লা জেল সুপারের শরীরে ছুড়ে মারেন।

এ সময় লজ্জায় জেলা প্রশাসক জেল সুপার আবদুল জলিলের উদ্দেশে বলেন, ‘এভাবেই জেলখানা পরিচালনা করেন আপনারা?’ একথা বলেই দ্রুত জেলখানা থেকে বেরিয়ে যান ডিসি। ক্ষুব্ধ জেলা প্রশাসক জেল কর্তৃপক্ষের কোনো আপ্যায়নই গ্রহণ করেননি। এমনকি সেখানে তিনি এক গ্লাস পানিও খাননি।

এ বিষয়ে সিলেট জেলা প্রশাসক বলেন, ‘ওই বন্দি মানসিক বিকারগ্রস্ত- এমনটি আমাকে জানানো হয়েছে। বিষয়টি আমি দেখব।’

আরও জানা গেছে, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার আবদুল জলিলকে সোমবারই সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এ বদলি করা হয়েছে।

কয়েকটি সূত্রে জানা গেছে, জেল কোড অনুযায়ী একেকজন বন্দিকে দুপুর ও রাতে দুই বেলায় ৪৯৫ গ্রাম ভাত দেয়ার কথা। সকালের নাস্তার জন্য এক বেলায় আটা বরাদ্দ ৮৭ দশমিক ৪৮ গ্রাম।

প্রত্যেকের জন্য মাছ বা মাংস বরাদ্দ ৩৬ দশমিক ৪৫ গ্রাম। প্রতি একজনের জন্য ডাল ১৪৫ গ্রাম, সবজি ২৯১ গ্রাম, তেল ২০ দশমিক ৫ গ্রাম, লবণ ২৯ দশমিক ১৬ গ্রাম, আলু ১১৬ দশমিক ৬৪ গ্রাম।

সিলেট কারাগারে বন্দির সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৪০০। সরকারিভাবে এ খাবার যদি বন্দিদের সরবরাহ করা হয় তাহলে কি পরিমাণ বরাদ্দ কারা অভ্যন্তরে প্রতিদিন আসার কথা তারও একটি হিসাব পাওয়া গেছে।

সেই অনুযায়ী, ২ হাজার ৪শ’ বন্দির জন্য ৪৯৫ গ্রাম হিসাবে ১১শ’ ৮৮ কেজি চাল, ২১৪ কেজি আটা, মাছ অথবা মাংস ৮৯ কেজি, ডাল ৩৫৫ কেজি, ৭১২ কেজি সবজি, ৫০ কেজি রান্নার তেল, ৭১ কেজি লবণ, ২৮৫ কেজি আলু দেয়ার কথা প্রতিদিন।

কিন্তু একজন বন্দি যে খাবার পাওয়ার কথা তার ৩ ভাগের ১ ভাগ সরবরাহ করা হয়। অন্য ২ ভাগ কারাগারের বাইরে বিক্রি করে দেয়া হয়। মূলত সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে পার্ট ২-এর দায়িত্বে আছেন আবদুল জলিল।

পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন পার্ট ১-এরও। গত ৩ বছরে এ দুই কারাগার থেকেই বন্দিদের খাবারের অংশ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ওই সিন্ডিকেট।

এদিকে কারারক্ষীরাও শান্তিতে নেই সিলেটে। কারারক্ষীদের রেশনের চাল-ডাল বিক্রির একটি অংশও হাতিয়ে নেয় সেই সিন্ডিকেট। একাধিক কারারক্ষী যুগান্তরকে জানান, পুরনো কারাগারে একটি বড় পুকুর আছে।

ওই পুকুরের মাছ বন্দিদের পেটে যায় না। মাছ চাষ করেন সাজাপ্রাপ্ত বন্দিরা। সেগুলো বিক্রি করে মাসে ৫০ হাজার টাকা নেন সিন্ডিকেট সদস্যরা। এ পুকুরের দেখভালের দায়িত্বে আছেন প্রধান কারারক্ষী মো. নুরুল ইসলাম।

নতুন কারাগারে স্থানান্তরের পর পুরাতন কারাগারে গ্যাসলাইন বিচ্ছিন্ন রয়েছে। অথচ কাগজে-কলমে সেখানে ঠিকাদাররা জ্বালানি সরবরাহ করেন।

বাস্তবে জেলা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই গাছ কেটে তা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। জ্বালানি সরবরাহের পুরো টাকাই ভাগ-বাটোয়ারা হয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কারারক্ষীদের রেশন থেকে কিভাবে জেল সুপারের নেতৃত্বাধীন সিন্ডিকেট টাকা আয় করে এর একটি বিশদ বর্ণনা পাওয়া গেছে।

একজন কারারক্ষী এ প্রসঙ্গে বলেন, অবিবাহিত কারারক্ষী প্রতি মাসে ১১ কেজি চাল, ১২ কেজি গম, সাড়ে ৩ কেজি ডাল, আড়াই কেজি তেল ও পৌনে ২ কেজি চিনি পাওয়ার কথা। কিন্তু এ রেশন তারা পান না। কারারক্ষীদের বলা হয়, চাল-ডাল ভালো না। কিনে খান। নামকাওয়াস্তে অবিবাহিত কারারক্ষীদের রেশন বিক্রির নগদ অর্থ ধরিয়ে দেয়া হয়।

ওই সিন্ডিকেটের পক্ষ থেকে কারারক্ষীদের বলা হয়, রেশনের প্রতি কেজি চালের বাজার মূল্য ৩৬ টাকা, গম ২৬ টাকা, ডাল ১শ’ টাকা, তেল ১শ’ টাকা এবং চিনি ১শ’ টাকা। কিন্তু বাস্তবে যে টাকা দেয়া হয় তা হচ্ছে- প্রতি কেজি চাল ১৮ টাকা, গম ১৬ টাকা, ডাল ৭০ টাকা এবং চিনি ৪০ টাকা। এ রেশন যিনি বণ্টন করেন তাকে সবাই ‘লাইস’ নামে ডাকেন।

এখন এ লাইসের দায়িত্বে আছেন লিটন। তিনি জেল সুপারের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় ৪ বছর ধরে এ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

এছাড়া জেল সুপারের ওই সিন্ডিকেটের সদস্য হিসেবে আছেন কারারক্ষী আবদুল মতিন, বাহার, মনফর ও কিবরিয়া।

উল্লিখিত অভিযোগের বিষয়ে জেল সুপার আবদুল জলিল বলেন, বন্দিদের খাদ্য কম দেয়ার সব অভিযোগ মিথ্যা। বন্দিরা মিথ্যা কথা বলেছে।

নিজের শরীরে বন্দির ময়লা নিক্ষেপের বিষয়ে বলেন, জাবেদ আসলে পাগল। কথায় আছে না পাগলে কিনা বলে ছাগলে কিনা খায়। সেরকমই আরকি। তাহলে ঘটনার পর একজন বন্দি পাগলকে নির্যাতন করা হল কেন?

উত্তরে তিনি বলেন, এ অভিযোগ সঠিক নয়। জমি ঘুষ নেয়ার অভিযোগ সম্পর্কে বলেন, জমি বড়ভাই তার নিজের টাকায় কিনেছেন। ঘুষের অভিযোগ সঠিক নয়।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
অনুমতি ছাড়া লেখা ও ছবি অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Developed By matrijagat.com